বরিশালের তালপাতার হাত পাখা দেশে জুড়ে সরবরাহ হচ্ছে

মাত্র কয়েকদিন পর বাঙালীর প্রাণের উৎসব বাংলা নববর্ষ। জেলার সব কয়টি উপজেলায় বসবে মাসব্যাপী বৈশাখী মেলা। এ মেলায় একটু বেশি অর্থের আশায় তৈরী হচ্ছে রং বে রং-এর বিভিন্ন ধরনের তালপাতার হাত পাখা। ভ্যপসা গরম ও প্রচন্ড তাপদাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হচ্ছে বাঙালীর ঐতিহ্যবাহী চিরচেনা তালপাখা। তাই এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পাখা পল্লীর কারিগরা। জেলার গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী গ্রামের পাখা পল্লীর কারিগররা জানায়, এ ‘পাখা পল্লীর’ তালপাখা বিক্রি হয় দেশের বিভিন্ন মেলা, হাট-বাজার, বাসষ্ঠ্যান্ডসহ বিভিন্ন দোকানে। গরম এলেই প্রচন্ড তাপদাহ থেকে একটু স্বত্তি পেতে সকলের হাতেই দেখা যায় তালপাতার হাত পাখা। আর এসব পাখা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন শতাধিক পরিবার। দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে ওইসব পরিবারের সদস্যরা তালপাতা দিয়ে হাত পাখা তৈরি করছেন। পাখা পল্লীর কারিগররা আরো জানায়, পাখা তৈরীর উপকরণের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় অর্থাভাবে এখানকার অনেকেই পেশা পরিবর্তন করেছেন। যারা এখনো এ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন তারা সরকারের সংশ্লি­ষ্ট দপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতা চেয়েছেন। সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে হস্ত শিল্পটিতে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সবস্তরে এখন দাবি উঠেছে। জেলার গৌরনদী উপজেলায় গ্রামটির নাম চাঁদশী হলেও পাখা তৈরির এলাকাটি ‘পাখা পল্লী’ নামেই সবার কাছে সুপরিচিত।
এ প্রসঙ্গে আলাপকালে পাখা পল্লীীর কারিগর হাসেম খলিফা (৬০), তরুন হালদার (৪০) জানান, বিগত ৩০ বছর ধরে তারা পাখা বানানোর কাজ করছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরা নিরলস পরিশ্রম করে এ পেশায় টিকে আছেন। বর্তমানে পাখা তৈরির প্রধান উপকরণ ‘তাল পাতার’ তীব্র সংকট চলছে। গৌরনদী উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে অধিক মূল্যে তাদের তালপাতা ও বাঁশ ক্রয় করতে হয়। বছরের ছয় মাস তারা এ কাজ করে থাকেন।
হাসেমের পরিবারের ৭ জন ও তরুন হালদারের পরিবারে ৬ জন সদস্য এ কাজের সাথে জড়িত রয়েছেন। হাসেমের কন্যা সিমু আক্তার নবম ও কাজল দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। স্কুল থেকে ফিরেই বাবার সাথে এ পাখা বানানোর কাজ করেন তারা। রোগাক্রান্ত হাসেমের সাত সদস্যর সংসার চলছে হাত পাখা বানিয়েই। তার পরিবারের সকলে মিলে একদিন ১’শ টি হাতপাখা তৈরি করতে পারেন। প্রতিটি পাখা তৈরি করতে তাদের খরচ হয় ১২ টাকা আর পাইকারি হিসেবে বিক্রি করছেন ১৫ টাকায়। এদিকে জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার কারিগর কাসেম খলিফা, আবুল হোসেন, শাহজাহান খলিফা, স্বপন খলিফাসহ একাধিক করিগর জানান, সপ্তাহে একদিন পাইকার এসে বাড়ি থেকে হাত পাখা ক্রয় করে নিয়ে যায়। পাখা তৈরি করাই হচ্ছে তাদের গ্রামের প্রধান আয়ের উৎস। তাদের হাত পাখা পল্লীর তৈরি পাখা বিক্রি হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন মেলা, হাট-বাজারসহ বিভিন্ন দোকানে। সূত্র আরো জানান, উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির পর অর্থাভাবে এ পেশার সাথে জড়িত আরো প্রায় পঞ্চাশটি পরিবার পেশা পরিবর্তন করেছেন। বাকি পরিবারগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হলে সহজ শর্তে সুদ মুক্ত ঋণ দেয়ার জন্য তারা সরকারের সংশ্লি­ষ্ট দপ্তরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ব্যাপারে বরিশাল জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন হায়দার জানান, আমি এ জেলায় এসেছি খুব বেশি দিন হয়নি। তবে আমি পাখা পল্লী­র খবর পেয়েছি। পরিদর্শনের জন্য খুবশ্রীগ্রই যাব আশা করছি। । কারিগররা নগদ অর্থ সহায়তাসহ ব্যাংক ঋণ’র জন্য আবেদন করলে বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসক সব ধরনের সহযোগিতা করবে।