ভায়াদোলিদকে হারিয়ে এ্যাথলেটিকোর আরো কাছে পৌঁছে গেল বার্সেলোনা

ওসমানে ডেম্বেলের শেষ মুহূর্তের গোলে রিয়াল ভায়াদোলিদকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে লা লিগার শীর্ষে থাকা এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের আরো কাছে পৌঁছে গেছে বার্সেলোনা। ক্যাম্প ন্যুতে ম্যাচের ৯০ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ফরাসি তারকা ডেম্বেলে। একইসাথে এই জয়ে আগামী সপ্তাহে মৌসুমের দ্বিতীয় এল ক্লাসিকোর আগে আত্মবিশ^াস মজবুত করলো কাতালান জায়ান্টরা। শনিবার সেভিয়ার কাছে এ্যাথলেটিকো পরাজিত হওয়ায় সেই সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা বার্সার সামনে সুযোগ ছিল পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়ে উপরে উঠে যাওয়ায়। ম্যাচ শেষের ১২ মিনিট আগে ওস্কার প্লানো লাল কার্ড দেখে মাঠের বাইরে চলে গেলে ১০ জনের দলে পরিনত হয় ভায়াদোলিদ। আর সেই সুযোগকে পরিপূর্ণ ভাবে কাজে লাগিয়ে ডেম্বেলে গোল আদায় করে নেন। এই জয়ে বার্সা লা লিগার শিরোপা লড়াই জমিয়ে তুলেছে। ৬৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা এ্যাথলেটিকোর থেকে এক পয়েন্ট পিছিয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে হটিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বার্সা। দুই পয়েন্ট পিছিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল। শনিবার এল ক্ল্যাসিকোর ম্যাচটি এখন তাই যথেষ্ঠ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অথচ মাত্র দুই মাস আগেও রিয়াল ও বার্সার থেকে এক ম্যাচ হাতে রেখে ১০ পয়েন্টের সুষ্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছিল দিয়েগো সিমিওনের এ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। এল ক্লাসিকোতে রিয়ালের মাঠে রোনাল্ড কোম্যানের দল যদি জয়ী হয় তবে তারা অন্তত ২৪ ঘন্টার জন্য শীর্ষস্থানে উঠে আসবে। রোববার অনেকটাই মুষড়ে পড়া এ্যাথলেটিকো রিয়াল বেটিসের বিপক্ষে এ্যাওয়ে ম্যাচে মাঠে নামবে। শিরোপার দৌঁড়ে এগিয়ে থাকতে হলে কাল জয় ভিন্ন বিকল্প পথ খোলা ছিলনা বার্সার সামনে। প্রথম থেকেই দারুন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভায়াদোলিদের বিপক্ষে ম্যাচটিও বেশ কঠিন হয়ে উঠেছিল। বিরতির সময় সতীর্থদের উদ্দেশ্য করে লিওনেল মেসি বলেছিলেন, ‘আমাদের অবশ্যই আরো বেশী ছন্দ নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে হবে। আর তা যদি না হয় তবে ম্যাচ বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়বে।’ ৭৮ মিনিটে প্লানো লাল কার্ড না পেলে সত্যিকার অর্থেই ম্যাচটি বার্সেলোনার জন্য কঠিন হয়ে পড়তো। ডেম্বেলেকে পিছন থেকে ফাউলের অপারাধে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। আর শেষ মুহূর্তে সেই সুবিধাটাই কাজে লাগিয়েছে বার্সা। কোম্যান বলেছেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা টেনশনে ছিলাম। আক্রমনভাগে তেমন কোন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারিনি। একইসাথে রক্ষনভাগও ভাল খেলেনি। খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা পরিশ্রান্ত ভাব লক্ষ্য করেছি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রন মোটেই আমাদের পক্ষে ছিলনা। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ম্যাচে ফিরে আসি।’ এর মাধ্যমে টানা ছয়টি লিগ ম্যাচে জয় নিশ্চিত করলো বার্সেলোনা। বিশেষ করে একটি দিক লক্ষ্যনীয় এই ম্যাচগুলোতে বার্সেলোনার কাছ থেকে মোটেই ভাল পারফরমেন্স দেখা যায়নি। ভায়াদোলিদ অবশ্য করোনা ও ইনজুরির থাবায় মূল দলের ১২ খেলোয়াড় ছাড়াই কাল মাঠে নেমেছিল। রোববার তাদের পাঁচজন খেলোয়াড় করোনা পজিটিভ হয়েছে। এছাড়া আরো ছয়জন ইনজুরিতে ও আরেকজন নিষিদ্ধ রয়েছেন। তারপরেও প্রথমার্ধে শুধুমাত্র বার্সাকেই তার প্রতিরোধ করেনি, ভাল দল হিসেবে মাঠে টিকে ছিল। কেনান কোড্রোর হেড বারে না লাগলে প্রথমার্ধেই এগিয়ে যেতে পারতো সফরকারীরা। ডেম্বেলে ও মেসির দুটি শট রুখে দেন ভায়াদোলিদ গোলরক্ষক জোর্দি মাসিপ। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য বার্সার চেহারা পাল্টে যায়। ডেম্বেলে, মেসি ও আঁতোয়া গ্রীজম্যানকে রুখতে গিয়ে রীতিমত হিমশিম খেতে হয়েছে ভায়াদোলিদের রক্ষনভাগকে। বল ও পজিশনের দিক থেকে দাপট দেখিয়েছে বার্সাই। ৬৩ মিনিটে কোম্যান একইসাথে তিনটি পরিবর্তন করে গ্রীজম্যান, সার্জিও বাসকুয়েট ও ওস্কার মিনগুয়েজার স্থানে মাঠে নামান মার্টিন ব্র্যাথওয়েট, ফ্রান্সিসকো ট্রিনকাও ও রোনাল্ড আরাওজোকে। ৭৮ মিনিটে প্লানোর মাঠ ত্যাগে বার্সা নড়েচড়ে বসে। ফ্রেংকি ডি জংয়ের ক্রস থেকে ডেম্বেলে কোনাকুনি শটে ৯০ মিনিটে বার্সাকে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট উপহার দেন।