পিরোজপুরে ৬০ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

জেলায় চলতি মৌসুমে ৬০ হাজার ১৯৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে একই সাথে আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে ৯৮ হাজার ১২১ মেট্রিক টন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলার ৭ উপজেলার প্রতিটির আমন চাষের ও আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
আমনের মধ্যে উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাত রয়েছে এবং এ জেলার ৫৩টি ইউনিয়ন ও ৪ পৌরসভায় একযোগে বীজতলা তৈরির কাজ চাষিরা চালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত সবকিছুই চাষিদের অনুক’লে রয়েছে বলে পিরোজপুর পৌর এলাকার আমন ধান চাষি রতন ঢালী জানান। পিরোজপুর সদর উপজেলায় আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৮০৫ হেক্টরে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন। অনুরূপভাবে ইন্দুরকানীতে ৫ হাজার ১৮০ হেক্টরে ৮ হাজার ৭৪ মেট্রিকটন, কাউখালীতে ৪ হাজার ২৬০ হেক্টরে- ৬ হাজার ৩৩৫ মেট্রিক টন, নেছারাবাদে ৬ হাজার ৯০ হেক্টরে- ৮ হাজার ৯৪৫ মেটিক ্রটন, নাজিরপুরে ৬ হাজার ২৫ হেক্টরে- ১১ হাজার ৬৯০ মেট্রিকটন, ভান্ডারিয়ায় ১০হাজার ৫ হেক্টরে ১৪ হাজার ৭৩২ মেট্রিক টন এবং মঠবাড়িয়ায় ১৯ হাজার ৮৩০ হেক্টরে ৩৪ হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন চাষের ও চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পিরোজপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় জানান, উন্নত মানের ধান, গম ও পাটবীজ উৎপাদন সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের আওতায় ২১টি প্রদর্শনী প্লট তৈরী করা হয়েছে। ৫ একরের প্রতিটি প্লট দর্শনীয় স্থানে থাকার ফলে কৃষকরা দেখে উৎসাহিত হচ্ছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ- খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা- পিরোজপুর এ পাঁচ জেলাকে নিয়ে চলমান কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি ৩৩ শতকের ১৩৯টি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হচ্ছে। রাজস্ব খাতের অধীনে একই পরিমাণ জমি নিয়ে ২৪০টি প্রদর্শনী প্লট প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রতিটি ৫০ শতক করে জমি নিয়ে মোট ৯৪টি টি প্লট প্রদর্শনে কাজও শুরু হতে যাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণের জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অরুন রায় জানান এ জেলায় ইতিমধ্যেই চাষে ৯০ ভাগ এবং ধান মাড়াইতে ৯৫ভাগ যান্ত্রিকীকরণ হয়েছে। খুব দ্রুতই শতভাগ কৃষক এসব পদ্ধতি ব্যবহার করবে। জেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক আমন চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন। সার বীজ সহজলভ্য হওয়ায় এবং এ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুক’লে থাকায় চাষাবাদের এবং চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলেই।