বরিশালের মোহনকাঠীর ২’শ পরিবার চাই তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করছে

প্রায় ২’শ বছর ধরে বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার মোহনকাঠী গ্রামের ৩’শ পরিবার বংশ পরমস্পরায় মাছ ধরার চাঁই তৈরি করে জীবকা নির্বাহ করছে। মোহনকাঠী গ্রামের তৈরি করা চাঁই বিক্রি হচ্ছে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাগুলোতে।
মাছ ধরার এ চাঁই তৈরির জন্য বিখ্যাত আগৈলঝাড়া উপজেলার মোহনকাঠী গ্রাম। এ গ্রামে কবে কখন কে চাই তৈরি করার কাজ শুরু করেছেন তা সঠিকভাবে বলতে না পারলেও
সরোজমিনে, একাধিক প্রবীন জানান, প্রায় দু’শ বছর ধরেই এ গ্রামে চাই তৈরি ও বিক্রি চলছে। বংশ পরম্পরায় এ গ্রামের ৩’শ পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে চাই তৈরি করে। গ্রামের পুরুষরা বর্ষা মৌসুমের ছয় মাস চাই তৈরি ও শুষ্ক মৌসুমে দিনমজুরের কাজ করেন।
মোহনকাঠী গ্রামের তৈরি করা চাই বিক্রি হয় দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার হাট-বাজারে। গ্রামটির নাম মোহনকাঠী হলেও চাই তৈরি করতে গিয়ে গ্রামের নাম হয়েছে ‘আগৈলঝাড়ার চাঁই পল্লী । নানাবিধ সমস্যার মধ্যে বংশ পরম্পরায় এ গ্রামের বাসিন্দারা চাই তৈরির পেশাকে ধরে রেখেছেন। চাই তৈরির প্রধান উপকরণ বাঁশ, বেত ও লতার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই অর্থাভাবে মহাজনদের কাছ থেকে দাদন ও বিভিন্ন এনজিওর কাছ থেকে টাকা এনে চাই বানাচ্ছেন। গ্রামের মাখন বৈরাগীর পুত্র দুলাল বৈরাগী বর্তমানে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। হরলাল বৈদ্যর পুত্র প্রশান্ত বৈদ্য ও স্নাতক শ্রেণীতে পড়ছেন।
এবিযয়ে দুলাল বৈরাগী ও প্রশান্ত বৈদ্য জানান, লেখাপড়ার পাশাপাশি পরিবারের সাথে চাঁই বুনতে তারা সহযোগিতা করে থাকেন। শুধু দুলাল ও প্রশান্তই নয় গ্রামের প্রত্যেকটি ঘরের ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনার পাশাপাশি চাই তৈরির কাজে পিতা-মাতাকে সাহায্য করে থাকে। বর্ষা মৌসুম এলেই পরিবারের সকলের ব্যস্ততা আরো বেড়ে যায়।
মোহনকাঠী গ্রামের হরলাল বৈদ্য (৬৬), নলিনী বৈরাগী (৭০) সহ অনেকেই জানান, দু’শ টাকার তলা বাঁশ, দু’শ টাকার কৈয়া লতা দিয়ে একেকজন শ্রমিক ৫ দিনে এককুড়ি (২০টি) চাই তৈরি করতে পারেন। মহাজনদের কাছ থেকে দাদন আনার ফলে তাদের কাছে প্রতি কুড়ি চাই পাইকারি হিসেবে বিক্রি করা হয় ১২’শ থেকে ১৬’শ টাকায়। বাজারে যার দাম ২ হাজার থেকে ২৫’শ টাকা।
মোহনকাঠী গ্রামের লক্ষন বৈরাগী জানান, তাদের গ্রামের তৈরি চাঁই স্থানীয় মাহিলাড়া, পয়সারহাট, সাহেবেরহাট, ধামুরাসহ বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠী, ঘাঘর, শশীকর, নবগ্রাম, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার হাট-বাজারে বিক্রি করা হয়।