সরকার ৯০ হাজার মেট্রিক টন সার, ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম ক্রয় করবে

দেশের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার মোট ৯০ হাজার মেট্রিক টন সার ও ৫০ হাজার মে. টন গম ক্রয়ের পৃথক প্রস্তাব আজ অনুমোদন দিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) ৩০তম বৈঠকে আজ এই অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সভায় আজ মোট ১১টি প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি)-এর নতুন সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের সাবস্ক্রিপশন ফি এবং ব্যাংকে দেশের সম্ভাব্য শেয়ার সম্পর্কে, সাংবাদিকরা জানতে চাইলে কামাল জানান, তিনি পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি জানাবেন।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এই সপ্তাহের শুরুতে উজবেকিস্তানের তাশখন্দে অনুষ্ঠিত ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের (আইএসডিবি গ্রুপ) ২০২১ সালের বার্ষিক সভায় তার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শামসুল আরেফিন ভার্চুয়ালি ব্রিফিংয়ে যুক্ত হয়ে বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ১১৫.১৬ কোটি টাকার প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক দানাদার ইউরিয়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে ক্রয় করবে। এখানে প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারের দাম হবে ৪৫০.৮৩ ইউএস ডলার।
তিনি বলেন, বিসিআইসি কাতারের মুনতাজাত থেকে ১১১.৭২ কোটি টাকার আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগযুক্ত দানাদার ইউরিয়া সার সংগ্রহ করবে। যেখানে প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম হবে ৪৩৬.৮৩ ইউএস ডলার।
এছাড়া, বিসিআইসি সৌদি বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (এসএবিআইসি) থেকে প্রায় ১০৮.৯১ কোটি টাকা মূল্যের আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক দানাদার ইউরিয়া সার ক্রয় করবে। এখানে প্রতি মেট্রিক টন সারের দাম হবে ৪২৫.৮৩ ইউএস ডলার।

সিসিজিপি’র বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম (১২.৫ শতাংশ প্রোটিন সমৃদ্ধ) কেনার জন্য একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে তিনটি প্যাকেজের আওতায় সিঙ্গাপুরের এম/এস এগ্রোক্রপ ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেড থেকে প্রায় ১৭৯.৫১ কোটি টাকার এই গম কেনা হবে। যেখানে প্রতি মেট্রিক টন গমের দাম হবে ৪২১.৩৮ ইউএস ডলার ।
আজকের বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আরেকটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এটি হলো সর্বনিম্ন রেসপন্সসিভ বিডার ঢাকার মনিকো লিমিটেড-এর মাধ্যমে ‘রামগড় স্থলবন্দরের উন্নয়ন’-এর গণপূর্তের কাজ এবং প্রায় ১২৩.৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্প-১ এর অধীন শেওলা, ভোমরা, রামগড় স্থলবন্দর উন্নয়ন এবং বেনাপোল স্থল বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সর্বাধুনিককরণ’ কাজে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাব অনুসারে ৪১.৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য কোরিয়ার উজু এবং সানজিন-এর যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সিসিজিপি-এর বৈঠকে সর্বনিম্ন রেসপন্সসিভ দরদাতাকে ৭৩.৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনের পাঠ্যপুস্তকের ৩৩ লাখ ২১ হাজার ১৯০ কপি ছাপানো, বাঁধাই এবং সরবরাহ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শামসুল বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ১৩ হাজার ৪০ ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমার ক্রয় করবে।
এদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি প্রস্তাব অনুযায়ী আজকের সিসিজিপি’র সভায় শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়, নেত্রকোণা নির্মাণের অংশ হিসেবে ২৩৯.৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৪৯৮.৪৫ একর ভূমি উন্নয়নের জন্য দরদাতা হিসাবে ঢাকার মেসার্স নুরুজ্জামান খানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।