রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে ভিওআইপি সরঞ্জামাদিসহ অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা চক্রের ০৪ সদস্য গ্রেফতার

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দেশের সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সব ধরণের অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। র‌্যাব নিয়মিত জঙ্গী, সন্ত্রাসী, সংঘবদ্ধ অপরাধী, খুনী, ধর্ষক, দেশাদ্রোহী, সাইবার অপরাধী, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। এছাড়াও র‌্যাব ভিওআইপি ব্যবসার মাধ্যমে সরকার তথা দেশের সাথে প্রতারণা ও জালিয়াতি দমন র‌্যাবের একটি গুরূত্বপূর্ণ ও চলমান অভিযান। র‌্যাবের এই অভিযান দেশের সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় অদ্য ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রিঃ তারিখ আনুমনিক ০৯:৩০ ঘটিকায় র‌্যাব-১০ ও বিটিআরসি এর সমন্বয়ে যৌথ আভিযানিক দল রাজধানী ঢাকার ফকিরাপুল গরমপানির গলি এলাকায় একটি অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপি’র শেরেবাংলা নগর থানার মামলা নম্বর-৩২, তারিখ ২৩-০৯-২০১৮ইং ধারা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০১ (সংশোধনী ২০১০) এর ৩৫/৭৩/৭৪ ধারা এর পলাতক আসামী এবং অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা চক্রের সাথে জড়িত ০৪ সদস্যকে আন্তার্জাতিক  কলিং কার্ডসহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের নাম ১। মোঃ আমির হামজা (৩৩), ২। মোঃ আলমগীর হোসেন (৪৫), ৩। মোঃ শামীম মিয়া (২৯) ও ৪। মোঃ সাগর মিয়া (২৭) বলে জানা যায়। এসময় তাদের নিকট থেকে ভিওআইপি ব্যবসায় ব্যবহৃত ০২টি সিপিইউ, ০২ টি মনিটর, ০১ টি মাউস, ০১ টি কী-বোড, ০২টি প্রিন্টার, ০২টি স্কেনার, ০১টি পেপার কাটার মেশিন, ০১টি ডিজিটাল ওজন মেশিন ও ০৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত এই অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রন কমিশন (বিটিআরসি) হতে লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতীত এই অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। প্রাথমিকভাবে জানা যায় উক্ত প্রিন্টিং প্রেসে যে বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক কলিং কার্ড পাওয়া গেছে তা যদি ব্যবহার হতো তাহলে বাংলাদেশ সরকার আনুমানিক ১৯,৪৭,৪৭,৭৫০/- (ঊনিশ কোটি সাতচল্লিশ লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার সাতশত পঞ্চাশ) টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হতো। 

এই অসাধু ভিওআইপি ব্যবসায়ীরা প্রচলিত সফটওয়্যার ভিত্তিক সুইচ এর মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করে অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক কল রাউট করত এবং উক্ত স্থাপনা পরিচালনা করার মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রদেয় রাজস্ব/চার্জ ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে যান্ত্রিক, ভার্চুয়াল এবং সফটওয়্যার ভিত্তিক কৌশল অবলম্বন করে অবৈধ ভাবে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও রিচার্জ সেবা প্রদান করত। 

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সমূহে প্রচলিত ডায়ালার অ্যাপের কল সমূহ বাংলাদেশে অবৈধভাবে রাউট করত এবং উক্ত অ্যাপে রিচার্জ এর জন্য বিভিন্ন অংকের কলিং কার্ড বিক্রয় করত। এছাড়া তারা অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও রিচার্জ সেবা প্রদান করত এবং হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করত বলে জানা যায়। 

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত আসামীরা অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার চক্রের সদস্য। তারা দীর্ঘ ৭/৮ বছর যাবৎ সরকারকে প্রদেয় রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভিওআইপি এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও রিচার্জ এর ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। উক্ত প্রিন্টিং প্রেসে ভয়েস পাকিস্তান, পাকিস্তান ভয়েস, কাতার এক্সপ্রেস, এশিয়ান টেলিকম, এনএস এক্সপ্রেস, প্রবাসী কার্ড, স্বপন টেল, সুপার কার্ড ও কাতার টু সহ মোট ১০৭টি কলিং কার্ড ক্লাইন্টের আনুমানিক দেড় লক্ষাধিক কুপন পাওয়া গেছে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।